পুরুষের হার্নিয়া রোগ কেন হয়? হার্নিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত। হার্নিয়া একটি সাধারণ সমস্যা যা পুরুষদের মধ্যে বিশেষভাবে বেশি দেখা যায়। এই রোগটি হলে শরীরের একটি অঙ্গ বা টিস্যু নিজের স্বাভাবিক অবস্থান থেকে স্থানচ্যুত হয়ে যায় এবং মাংসপেশীর মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসে।

হার্নিয়া নিয়ে সঠিক ধারণা থাকলে এবং সময়মতো চিকিৎসা নিলে এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা হার্নিয়া কেন হয়, এর লক্ষণ, কারণ, প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।
Table of Contents
পুরুষের হার্নিয়া রোগ কেন হয়?
পুরুষদের হার্নিয়া সাধারণত পেটের ভেতরের টিস্যু বা অঙ্গ পেটের দেওয়ালের দুর্বল অংশ দিয়ে বাইরে বের হয়ে আসার কারণে হয়। পেটের অতিরিক্ত চাপ, ভারী জিনিস তোলা, কোষ্ঠকাঠিন্য, দীর্ঘমেয়াদি কাশি বা জন্মগত পেশীর দুর্বলতা হার্নিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
- এটি মূলত কুঁচকি, নাভি বা অস্ত্রোপচারের পুরনো দাগের জায়গায় বেশি দেখা যায়।
- সময়মতো চিকিৎসা না করলে জটিলতার ঝুঁকি থাকে।
হার্নিয়া কী?
হার্নিয়া বলতে বোঝায় যখন কোনো অঙ্গ বা টিস্যু তার নির্দিষ্ট অবস্থান থেকে মাংসপেশীর মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসে। সাধারণত, পেটের অভ্যন্তরের অঙ্গগুলো মাংসপেশী দ্বারা ঢেকে থাকে। কিন্তু কখনো কখনো দুর্বল মাংসপেশীর কারণে অঙ্গগুলো স্থানচ্যুত হয়ে গিয়ে হার্নিয়া তৈরি করে।
পুরুষদের মধ্যে হার্নিয়া কেন বেশি হয়?
পুরুষদের হার্নিয়ার ঝুঁকি বেশি হওয়ার কিছু নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে:
- শারীরিক গঠন: পুরুষদের পেটের নাভির নিচে মাংসপেশীর কিছু দুর্বল স্থান থাকে। এই দুর্বল স্থানগুলো সহজেই চাপে স্থানচ্যুত হয়ে যায়, যার ফলে হার্নিয়া তৈরি হয়। পুরুষের হার্নিয়া রোগ কেন হয়?
- ভারী কাজ করা: পুরুষরা সাধারণত ভারী কাজ করে থাকেন। ভারী বস্তু তোলা বা বহন করার সময় পেটের অভ্যন্তরে চাপ বৃদ্ধি পায়, যা মাংসপেশীর দুর্বল স্থানগুলোকে প্রসারিত করে হার্নিয়া সৃষ্টি করতে পারে।
- মাংসপেশীর দুর্বলতা: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাংসপেশী দুর্বল হয়ে পড়ে। এছাড়া, পূর্বের অপারেশন বা আঘাতের কারণে পেটের মাংসপেশী দুর্বল হলে হার্নিয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
- আন্তঃশারীরিক চাপ: কাশি, কোষ্ঠকাঠিন্য বা মূত্রত্যাগের সমস্যা থাকলে পেটের অভ্যন্তরে চাপ বৃদ্ধি পায়, যা মাংসপেশীর দুর্বল স্থানগুলিকে আরো দুর্বল করে ফেলে।
হার্নিয়ার ধরন
পুরুষদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের হার্নিয়া দেখা যায়। এর মধ্যে কিছু সাধারণ ধরনের হার্নিয়া নিচে উল্লেখ করা হলো:
- ইনগুইনাল হার্নিয়া: এটি সবচেয়ে সাধারণ হার্নিয়ার ধরন, যা পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। এখানে অন্ত্র বা মেদ পেটের নীচের অংশে ইনগুইনাল চ্যানেলের মাধ্যমে বেরিয়ে আসে।
- ফেমোরাল হার্নিয়া: এই ধরনের হার্নিয়া সাধারণত মেয়েদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, তবে পুরুষদের মধ্যেও হতে পারে। এখানে অন্ত্র বা মেদ ফেমোরাল চ্যানেলের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসে।
- আম্বিলিকাল হার্নিয়া: এটি শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে সাধারণত দেখা যায়। এখানে অন্ত্র বা মেদ নাভির মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসে। পুরুষের হার্নিয়া রোগ কেন হয়?
- ইনসিশনাল হার্নিয়া: পূর্বে করা কোনো সার্জারির ক্ষত স্থান দিয়ে অন্ত্র বা মেদ বেরিয়ে এলে তাকে ইনসিশনাল হার্নিয়া বলে।
হার্নিয়ার লক্ষণঃ পুরুষের হার্নিয়া রোগ কেন হয়?
পুরুষদের হার্নিয়া হলে কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ দেখা যায়। যেমন:
- পেটের নির্দিষ্ট স্থানে ফুলে যাওয়া বা গুটি দেখা দেওয়া।
- ফুলে যাওয়া স্থানে ব্যথা বা অস্বস্তি।
- ভারী কাজ করার সময় বা হাঁচি-কাশি দিলে ব্যথা বাড়ে।
- হঠাৎ করে পেটব্যথা, বমি বা কোষ্ঠকাঠিন্য।
হার্নিয়া থেকে মুক্তির উপায়
হার্নিয়া থেকে স্থায়ী মুক্তির একমাত্র উপায় হলো সঠিক চিকিৎসা এবং কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ। নিচে হার্নিয়া থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য কিছু কার্যকরী উপায় সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।
১. অস্ত্রোপচার (সার্জারি):
হার্নিয়া থেকে স্থায়ী মুক্তির প্রধান এবং কার্যকরী উপায় হলো অস্ত্রোপচার। সাধারণত, হার্নিয়া নিরাময়ের জন্য দুই ধরনের সার্জারি করা হয়:
Also Read
- ওপেন সার্জারি: এই পদ্ধতিতে একটি বড় কাট দিয়ে হার্নিয়ার অংশটিকে স্বাভাবিক অবস্থানে ফিরিয়ে আনা হয় এবং পেটের মাংসপেশী সেলাই করা হয়। কখনও কখনও মাংসপেশীর উপরে একটি জাল (মেশ) বসানো হয় যাতে ভবিষ্যতে হার্নিয়া পুনরায় না ঘটে।
- ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি: এটি একটি আধুনিক এবং কম জটিল পদ্ধতি। এখানে কয়েকটি ছোট ছোট কাট দিয়ে একটি ক্যামেরা ও অন্যান্য সরঞ্জাম ব্যবহার করে সার্জারি করা হয়। এতে ক্ষতস্থান কম থাকে এবং রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন।
সার্জারি ছাড়া হার্নিয়ার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তবে অস্ত্রোপচারের পরও কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ।
২. হার্নিয়া প্রতিরোধে প্রতিদিনের সতর্কতা:
অস্ত্রোপচারের পর বা হার্নিয়া প্রতিরোধে প্রতিদিন কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে:
- ভারী বস্তু তোলার সময় সতর্ক থাকুন: ভারী কিছু তুলতে হলে সঠিক পদ্ধতিতে হাঁটু ভাঁজ করে তুলুন। সরাসরি কোমর বা পেটের উপর চাপ না দিয়ে মেরুদণ্ড ও পা ব্যবহার করে তুলুন।
- কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করুন: নিয়মিত প্রচুর পানি পান করুন এবং আঁশযুক্ত খাবার খান। কোষ্ঠকাঠিন্য পেটের অভ্যন্তরে চাপ বাড়ায়, যা হার্নিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
- ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন: অতিরিক্ত ওজন মাংসপেশীর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, যা হার্নিয়ার অন্যতম কারণ। সুতরাং, স্বাস্থ্যকর ডায়েট ও নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
- ধূমপান ত্যাগ করুন: ধূমপান কাশি বৃদ্ধি করে এবং মাংসপেশীর দুর্বলতার কারণ হতে পারে, যা হার্নিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
৩. নিয়মিত ব্যায়াম:
নিয়মিত ব্যায়াম শরীরের পেশীগুলোকে মজবুত করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে পেটের মাংসপেশীকে শক্তিশালী করার ব্যায়াম করলে হার্নিয়া প্রতিরোধে উপকার পাওয়া যায়।
তবে ব্যায়াম করার সময় অবশ্যই সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে এবং খুব ভারী বা অতিরিক্ত পরিশ্রমের ব্যায়াম করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
৪. সঠিক খাদ্যাভ্যাস:
সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস মাংসপেশীকে শক্তিশালী রাখতে সহায়ক। আঁশযুক্ত খাবার, ফল, শাকসবজি এবং পর্যাপ্ত পানি পান করলে হজমশক্তি বৃদ্ধি পায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
৫. চিকিৎসকের পরামর্শ:
হার্নিয়ার যে কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করলে হার্নিয়া থেকে মুক্তি পাওয়া সহজ হয়।
পুরুষদের হার্নিয়া প্রতিরোধের উপায়
পুরুষদের মধ্যে হার্নিয়া প্রতিরোধে কিছু কার্যকরী পদ্ধতি রয়েছে:
- ভারী বস্তু তোলার সময় সতর্কতা: ভারী কিছু তোলার সময় হাঁটু ভাঁজ করে তুলতে হবে এবং পেটের উপর অপ্রয়োজনীয় চাপ পড়া থেকে বিরত থাকতে হবে। পুরুষের হার্নিয়া রোগ কেন হয়?
- স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন: নিয়মিত ব্যায়াম এবং সুষম খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে শরীর সুস্থ রাখতে হবে। এতে মাংসপেশীর শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং হার্নিয়ার ঝুঁকি হ্রাস পায়।
- কোষ্ঠকাঠিন্য এড়িয়ে চলা: নিয়মিত পানি পান এবং আঁশযুক্ত খাবার খেয়ে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে হবে। কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে পেটের অভ্যন্তরে চাপ বৃদ্ধি পায়, যা হার্নিয়ার কারণ হতে পারে।
- ওজন নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত ওজন হার্নিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। তাই স্বাস্থ্যকর ডায়েট এবং ব্যায়ামের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
হার্নিয়ার চিকিৎসা পদ্ধতি
হার্নিয়ার চিকিৎসায় সাধারণত সার্জারি করা হয়। হার্নিয়া দূর করার কিছু প্রচলিত পদ্ধতি নিম্নরূপ:
- ওপেন সার্জারি: এই পদ্ধতিতে একটি বড় কাট দিয়ে হার্নিয়ার অবস্থান ঠিক করা হয় এবং মাংসপেশী পুনরায় সেলাই করা হয়।
- ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি: এটি একটি আধুনিক পদ্ধতি যেখানে ছোট কয়েকটি কাট দিয়ে ক্যামেরা ও সরঞ্জাম ব্যবহার করে সার্জারি করা হয়। এতে রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে পারে।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত?
হার্নিয়ার কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে যদি পেটব্যথা, বমি বা হঠাৎ করে ফুলে যাওয়া স্থানে ব্যথা বৃদ্ধি পায়, তাহলে এটি হার্নিয়ার জটিলতার ইঙ্গিত হতে পারে।
হার্নিয়া হলে কী কী জটিলতা হতে পারে?
যদি হার্নিয়া সময়মতো চিকিৎসা না করা হয়, তবে এটি কিছু গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু জটিলতা হলো:
- স্ট্র্যাঙ্গুলেটেড হার্নিয়া: এই জটিলতায় হার্নিয়ার ভেতরে থাকা অন্ত্র বা টিস্যুর রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে হার্নিয়ার অংশটি ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায় এবং পেটব্যথা, বমি, এবং হজমে সমস্যা দেখা দেয়। এটি একটি মেডিকেল ইমার্জেন্সি এবং তৎক্ষণাৎ চিকিৎসা প্রয়োজন। পুরুষের হার্নিয়া রোগ কেন হয়?
- অবস্ট্রাকটেড হার্নিয়া: এই অবস্থায় অন্ত্রের কোনো অংশ হার্নিয়ার কারণে আটকে যায় এবং স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে না। এর ফলে পেটব্যথা, বমি, গ্যাস, এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়।
- ইনফেকশন: কোনো কারণে যদি হার্নিয়ার মধ্যে থাকা টিস্যুতে ইনফেকশন হয়, তাহলে এটি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে এবং পেটের ভেতরে ফোড়া বা ফোস্কা তৈরি হতে পারে।
হার্নিয়ার কারণে সৃষ্ট ব্যথা ও অস্বস্তি কমানোর উপায়
হার্নিয়া হলে ব্যথা ও অস্বস্তি কমানোর জন্য কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে, তবে মনে রাখতে হবে এগুলো সাময়িক স্বস্তির জন্য। স্থায়ী সমাধানের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
- গরম প্যাড: হার্নিয়ার স্থানে গরম প্যাড বা তাপ দিলে ব্যথা ও অস্বস্তি কিছুটা কমতে পারে।
- আরামদায়ক পোশাক পরা: শক্ত বা আঁটসাঁট পোশাক হার্নিয়ার অবস্থাকে আরও খারাপ করতে পারে। তাই ঢিলেঢালা এবং আরামদায়ক পোশাক পরা উচিত।
- খাবারে পরিবর্তন: হালকা ও সহজপাচ্য খাবার খাওয়া এবং মশলাযুক্ত খাবার পরিহার করা উচিত। এছাড়া দিনে পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে।
- হাঁটা: হালকা হাঁটা করলে পেটের পেশীগুলোর ওপর চাপ কম পড়ে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। এটি হার্নিয়া থেকে সৃষ্ট অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করে।
হার্নিয়া অপারেশনের পর সুস্থ হওয়ার প্রক্রিয়া
হার্নিয়া অপারেশনের পর সুস্থ হওয়ার জন্য কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে:
- বিশ্রাম: অপারেশনের পর কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত ভারী কাজ বা শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলতে হবে। বিশ্রাম নিলে মাংসপেশী দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে।
- খাবার: অপারেশনের পর সহজপাচ্য এবং হালকা খাবার গ্রহণ করতে হবে। ফাইবারযুক্ত খাবার খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য এড়ানো যায়।
- ওষুধ: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথানাশক ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করতে হবে।
- সেলাইয়ের যত্ন: অপারেশনের কাট বা সেলাইয়ের স্থানে বিশেষ যত্ন নিতে হবে। সেলাইয়ের স্থানে ইনফেকশন এড়াতে পরিষ্কার ও শুকনো রাখতে হবে।
- ডাক্তারকে ফলোআপ: অপারেশনের পর চিকিৎসকের ফলোআপে যাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ধরনের অস্বস্তি বা ব্যথা হলে তা তৎক্ষণাৎ চিকিৎসককে জানাতে হবে।
হার্নিয়া নিয়ে কিছু প্রচলিত ভুল ধারণা
অনেকের মধ্যে হার্নিয়া নিয়ে কিছু ভুল ধারণা রয়েছে। আসুন, আমরা সেগুলোর মধ্যে কিছু নিয়ে কথা বলি:
- কেবল বয়স্কদেরই হার্নিয়া হয়: এটি ভুল ধারণা। যদিও বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে হার্নিয়ার ঝুঁকি বাড়ে, তবে তরুণ এবং শিশুদেরও হার্নিয়া হতে পারে।
- হার্নিয়া নিজে নিজে ঠিক হয়ে যায়: এটি একটি ভুল ধারণা। হার্নিয়া নিজে নিজে নিরাময় হয় না এবং সঠিক চিকিৎসা না নিলে এটি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
- মালিশ বা ম্যাসাজে হার্নিয়া ভালো হয়: কোনো ধরনের মালিশ বা ম্যাসাজ হার্নিয়া নিরাময় করতে পারে না। এটি একটি শল্যচিকিৎসা সম্পর্কিত সমস্যা এবং সার্জারিই এর একমাত্র স্থায়ী সমাধান।
হার্নিয়া থেকে মুক্তি পেতে অস্ত্রোপচারই একমাত্র স্থায়ী সমাধান। তবে, প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় কিছু সতর্কতা অবলম্বন এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে হার্নিয়ার ঝুঁকি কমানো যায়।
আরও পড়ুনঃ


