পিজি হাসপাতালে বিকালে ডাক্তার দেখানোর নিয়ম ও পেমেন্ট পদ্ধতি। ঢাকার শাহবাগে অবস্থিত বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (BMU) বর্তমানে পিজি হাসপাতালের নতুন নাম। এর আগে এটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) নামে পরিচিত ছিল।

তবে সাধারণভাবে এই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে “পিজি হাসপাতাল” নামেই জনপ্রিয়। বাংলাদেশের অন্যতম সেরা চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান। এখানে প্রতিদিন হাজার হাজার রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন।
অনেকে দিনের কাজের ব্যস্ততার কারণে সকালে ডাক্তার দেখাতে পারেন না, তাই বিকালের শিফটে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ বেশ জনপ্রিয়। আমরা এখানে বিস্তারিত জানাবো পিজি হাসপাতালে বিকালে ডাক্তার দেখানোর নিয়ম, সময়সূচি, টিকিট সংগ্রহ প্রক্রিয়া এবং পেমেন্ট পদ্ধতি সম্পর্কে।
পিজি হাসপাতালে বিকালে ডাক্তার দেখানোর নিয়ম
পিজি হাসপাতালে বিকালের ডাক্তার দেখানোর সময়সূচি
বিকালে ডাক্তার দেখানোর জন্য নির্দিষ্ট সময় ঠিক করা আছে। সাধারণতঃ—
- বিকাল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত রোগী দেখা হয়।
- চিকিৎসক অনুযায়ী সময়ের কিছুটা পার্থক্য থাকতে পারে।
- শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিকাল শিফটে ডাক্তার পাওয়া যায়।
- শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিনে বিকালের শিফটে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয় না।
বিকালের শিফটে ডাক্তার দেখানোর জন্য টিকিট সংগ্রহের নিয়ম
বিকালে চিকিৎসা নিতে চাইলে আগে রোগীকে টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। টিকিট সংগ্রহের ধাপগুলো হলো:
- আউটডোর কাউন্টার: হাসপাতালে প্রবেশের পর মূল গেটের কাছেই আউটডোর টিকিট কাউন্টার রয়েছে।
- নাম নিবন্ধন: রোগীর নাম, বয়স, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর ইত্যাদি দিয়ে ফরম পূরণ করতে হয়।
- বিকালের টিকিট আলাদা: সকাল ও বিকালের টিকিট ভিন্ন হয়। বিকালের জন্য নির্দিষ্ট টিকিট সংগ্রহ করতে হবে।
- রোগীর সিরিয়াল: টিকিট সংগ্রহের সময় সিরিয়াল নম্বর দেওয়া হয়, যেটি অনুযায়ী ডাক্তার দেখানো হয়।
- টিকিট পাওয়ার সময়: বিকালের টিকিট সাধারণত দুপুর ১টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত দেওয়া হয়। তাই সময়ের আগে উপস্থিত হওয়া জরুরি।
পিজি হাসপাতালে বিকালের ডাক্তার দেখানোর ফি ও পেমেন্ট পদ্ধতি
বিকালের শিফটে ডাক্তার দেখানোর জন্য নির্দিষ্ট ফি ধার্য করা হয়েছে।
- চিকিৎসা ফি: সাধারণত ২০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত, চিকিৎসক ও বিভাগের উপর নির্ভর করে।
- বিশেষজ্ঞ ডাক্তার: সিনিয়র ও প্রফেসর পর্যায়ের ডাক্তারদের ফি কিছুটা বেশি হতে পারে।
- পেমেন্ট পদ্ধতি:
- সরাসরি ক্যাশ কাউন্টার থেকে টাকা জমা দিয়ে টিকিট সংগ্রহ করতে হয়।
- হাসপাতালের মধ্যে বেশ কয়েকটি ব্যাংক বুথ বা কাশিয়ার ডেস্ক আছে।
- বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ/নগদ/রকেট) এর মাধ্যমে ফি প্রদান করার সুযোগও চালু হয়েছে।
পিজি হাসপাতালে বিকালে কোন কোন বিভাগে ডাক্তার দেখানো যায়
বিকালের শিফটে প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ খোলা থাকে। এর মধ্যে রয়েছে—
- মেডিসিন বিভাগ
- সার্জারি বিভাগ
- চক্ষু (Eye) বিভাগ
- ইএনটি (কান, নাক ও গলা)
- অর্থোপেডিক্স বিভাগ
- কার্ডিওলজি (হৃদরোগ বিভাগ)
- নিউরোলজি বিভাগ
- গাইনী ও অবস বিভাগ
- শিশু বিভাগ
প্রতিটি বিভাগেই আলাদা বিশেষজ্ঞ ও কনসালটেন্ট বিকালে রোগী দেখেন।
Read More: জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ডাক্তার দেখানোর নিয়ম ও ফি প্রদান
Also Read
বিকালে ডাক্তার দেখানোর সুবিধা
বিকালের শিফটে ডাক্তার দেখানোর কয়েকটি বিশেষ সুবিধা রয়েছে—
- কম ভিড়: সকালবেলার তুলনায় বিকালে রোগীর ভিড় অনেকটা কম থাকে।
- সময় বাঁচে: কর্মজীবী মানুষ অফিস শেষে বিকালে সহজেই ডাক্তার দেখাতে পারেন।
- অভিজ্ঞ চিকিৎসক: বিকালের শিফটে সাধারণত অভিজ্ঞ ও সিনিয়র ডাক্তাররা রোগী দেখেন।
- সহজ পেমেন্ট ব্যবস্থা: টিকিট কাউন্টার ও ব্যাংক বুথ খোলা থাকে, ফলে দ্রুত ফি প্রদান করা যায়।
বিকালে ডাক্তার দেখাতে রোগীর করণীয়
পিজি হাসপাতালে বিকালে ডাক্তার দেখাতে হলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মেনে চলতে হবে:
- সময়মতো উপস্থিত হওয়া: টিকিট পেতে দুপুরেই চলে আসা ভালো।
- সিরিয়াল সংরক্ষণ: টিকিটে দেওয়া সিরিয়াল অনুযায়ী ডাক্তার দেখানো হবে।
- ডকুমেন্ট সঙ্গে রাখা: আগের টেস্ট রিপোর্ট, প্রেসক্রিপশন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে নিতে হবে।
- পরিচ্ছন্নতা ও নিয়ম মেনে চলা: হাসপাতালে প্রবেশের সময় মাস্ক ব্যবহার ও স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে।
পিজি হাসপাতালে বিকালের জরুরি সেবা
বিকালের শিফটে আউটডোর সেবার পাশাপাশি কিছু জরুরি বিভাগও খোলা থাকে। যেমন—
- ইমারজেন্সি সার্ভিস ২৪ ঘণ্টা খোলা।
- ডায়াগনস্টিক টেস্ট (ব্লাড, এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাফি ইত্যাদি) বিকাল পর্যন্ত চালু থাকে।
- ফার্মেসি ও ওষুধ কাউন্টার সারাদিন খোলা থাকে।
বিকালের শিফটে সিরিয়াল বুকিং সিস্টেম
পিজি হাসপাতালে বিকালে ডাক্তার দেখাতে চাইলে সিরিয়াল বুকিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- সরাসরি বুকিং: রোগী নিজে হাসপাতালের টিকিট কাউন্টারে গিয়ে সিরিয়াল নিতে পারেন।
- অভিভাবক বা প্রতিনিধি: কোনো কারণে রোগী উপস্থিত হতে না পারলে, পরিবারের কেউ তার পক্ষে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।
- অনলাইন বুকিং: কিছু নির্দিষ্ট বিভাগে অনলাইন সিরিয়াল বুকিং চালু হয়েছে, তবে এখনো সব বিভাগে নয়।
- সিরিয়াল সীমিত: প্রতিদিন নির্দিষ্ট সংখ্যক সিরিয়াল দেওয়া হয়। তাই আগে আসলেই আগে সুবিধা পাওয়া যায়।
বিকালের শিফটে টেস্ট করানোর নিয়ম
পিজি হাসপাতালে ডাক্তার দেখানোর পর সাধারণত বিভিন্ন ধরনের মেডিকেল টেস্ট করতে হতে পারে। বিকালে টেস্ট করানোর নিয়মগুলো হলো:
- ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন: ডাক্তার প্রেসক্রিপশন দিলে নির্দিষ্ট টেস্ট সেন্টারে যেতে হবে।
- ডায়াগনস্টিক কাউন্টার: এখানে টেস্টের ফি জমা দিতে হয়।
- পেমেন্ট পদ্ধতি: ক্যাশ ও মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে টাকা জমা দেওয়া যায়।
- টেস্ট রিপোর্ট সংগ্রহ: অধিকাংশ টেস্টের রিপোর্ট ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেওয়া হয়। জরুরি রিপোর্ট একই দিনে পাওয়া সম্ভব।
- ডিজিটাল রিপোর্ট সিস্টেম: বর্তমানে অনেক টেস্ট রিপোর্ট অনলাইনে হাসপাতালের ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা যায়।
রোগী সহকারীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা
অনেক রোগী একা হাসপাতালে আসতে পারেন না। এজন্য সহকারী বা অভিভাবকের জন্য কিছু নিয়ম মানতে হয়:
- রোগীর টিকিট সংগ্রহ ও ফি জমা দিতে সহকারী উপস্থিত থাকতে পারেন।
- জরুরি ক্ষেত্রে রোগীকে হুইলচেয়ার বা স্ট্রেচার দিয়ে বহন করার সুযোগ রয়েছে।
- সহকারীকে অবশ্যই হাসপাতালের নিয়ম মেনে প্রবেশ করতে হবে (মাস্ক, পরিচ্ছন্নতা ইত্যাদি)।
- শুধুমাত্র একজন সহকারীকে রোগীর সঙ্গে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।
বিকালের শিফটে বিশেষ বিভাগভিত্তিক সেবা
পিজি হাসপাতালে বিকালের সেবায় কিছু বিভাগ রোগীদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা দিয়ে থাকে।
- চক্ষু বিভাগ (আই সেন্টার): চোখের রোগের জন্য বিকালে অভিজ্ঞ ডাক্তার পাওয়া যায়। বিশেষ করে ছানি, গ্লুকোমা ও রেটিনা রোগের চিকিৎসা।
- কার্ডিওলজি বিভাগ: হৃদরোগীর চাপ কমাতে বিকালের শিফটে আলাদা কনসালটেন্টরা রোগী দেখেন।
- গাইনী বিভাগ: মহিলা রোগীদের জন্য আলাদা সময় ও কেবিনে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
- শিশু বিভাগ: বিকালে শিশু রোগ বিশেষজ্ঞরা টিকা, পুষ্টি ও চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন।
- নিউরোলজি বিভাগ: মস্তিষ্ক ও স্নায়বিক রোগের জন্য অভিজ্ঞ ডাক্তাররা বিকালে রোগী দেখেন।
ভর্তি ও কেবিন সংক্রান্ত নিয়ম (বিকালের সময়ে)
কিছু ক্ষেত্রে ডাক্তার রোগীকে ভর্তি হতে বললে বিকালের শিফটেও ভর্তি হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
- ভর্তি ফরম পূরণ: রোগীর নাম, ঠিকানা, অভিভাবকের তথ্য পূরণ করতে হয়।
- কেবিন বুকিং: বিশেষ রোগীদের জন্য কেবিন বুকিং করা যায়, তবে তা নির্ভর করে আসন খালি থাকার উপর।
- ভর্তি ফি ও জমা: ভর্তি হওয়ার সময় প্রাথমিকভাবে একটি নির্দিষ্ট টাকা জমা দিতে হয়, যা পরবর্তীতে মোট বিল থেকে সমন্বয় করা হয়।
বিকালের শিফটে ভিড় এড়ানোর টিপস
যেহেতু বিকালে অনেক রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন, তাই ভিড় এড়ানোর জন্য কিছু করণীয়:
- দুপুর ১২:৩০ থেকে ১টার মধ্যে চলে আসা ভালো।
- টিকিট পাওয়ার পর নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়, তাই ধৈর্য রাখা জরুরি।
- সিরিয়াল মিস না করার জন্য হাসপাতালের ঘোষণাপত্র (Announcement System) খেয়াল রাখতে হবে।
- যারা অনলাইন বুকিং ব্যবহার করবেন, তারা সময়মতো আসলেই কম ঝামেলায় চিকিৎসা নিতে পারবেন।
রোগীর জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট
বিকালের শিফটে চিকিৎসা নিতে গেলে রোগীর কিছু কাগজপত্র সঙ্গে রাখা উচিত:
- পুরনো প্রেসক্রিপশন
- সব ধরনের টেস্ট রিপোর্ট
- রোগীর জাতীয় পরিচয়পত্র / জন্ম সনদ (কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজন হতে পারে)
- হাসপাতালের পুরনো টিকিট (যদি থাকে)
- মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ (বিকাশ/নগদ/রকেট) ফি প্রদানের জন্য
চিকিৎসা সেবার মান ও রোগীর অভিজ্ঞতা
রোগীরা জানিয়েছেন যে বিকালের শিফটে—
- চিকিৎসা সেবা অনেকটা সহজ ও দ্রুত হয়।
- ডাক্তাররা যথেষ্ট সময় নিয়ে রোগীর কথা শোনেন।
- জরুরি রিপোর্ট দ্রুত পাওয়া যায়।
- ভিড় কম থাকায় রোগীরা সন্তুষ্ট থাকেন।
পিজি হাসপাতালে বিকালে ডাক্তার দেখানো কখন শুরু হয়?
বিকাল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ডাক্তার দেখানো হয়।
শুক্রবার বা সরকারি ছুটির দিনে কি বিকালের শিফটে ডাক্তার পাওয়া যায়?
না, শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিনে বিকালের শিফটে ডাক্তার দেখানো হয় না।
বিকালের শিফটের জন্য টিকিট কবে থেকে পাওয়া যায়?
দুপুর ১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত আউটডোর টিকিট কাউন্টার থেকে বিকালের টিকিট সংগ্রহ করা যায়।
বিকালে ডাক্তার দেখানোর ফি কত?
সাধারণত ২০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ফি নেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞ ও প্রফেসর পর্যায়ের ডাক্তারদের ফি কিছুটা বেশি হতে পারে।
ভর্তি হওয়া কি সম্ভব বিকালের শিফটে?
হ্যাঁ, ডাক্তার প্রয়োজন মনে করলে বিকালের শিফটেও ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়। কেবিন বুকিংও সম্ভব তবে আসন খালি থাকা সাপেক্ষে।
পিজি হাসপাতালে বিকালে ডাক্তার দেখানোর নিয়ম ও পেমেন্ট পদ্ধতি অত্যন্ত সহজ ও রোগীবান্ধব। দুপুর ১টা থেকে টিকিট সংগ্রহ করে বিকাল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের কাছ থেকে চিকিৎসা নেওয়া যায়। সঠিক সময়ে উপস্থিত হওয়া, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখা এবং নির্ধারিত ফি প্রদান করলেই সহজেই চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করা সম্ভব।


